1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. jamalhossain622423@gmail.com : jugantornews24 :
৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| বৃহস্পতিবার| সকাল ১১:০৫|
শিরোনামঃ
নিউজ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ড. এম এ কাইয়ুমের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল ইউথ কমিউনিটি ঢাকা-১১ জামালপুরে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির আয়োজনে – সাভার ডিবির অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, ইয়াবা ও চোলাইমদ উদ্ধার ভোলার ৭ উপজেলায় দুদকের ‘সততা স্টোর’: নৈতিকতা চর্চার এক নতুন দিগন্ত মধ্যনগরে বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় যুবকের মৃত্যু তানোরে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পদ দারী নেতা ছাড়া কর্মীরা কি কোন অপরাধ করে নি? দক্ষিণ সুরমায় তীর শিলং জুয়া যেন থামছেই না বোয়ালমারীতে বিএনপি জনসভা স্থগিত, খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিল

নলছিটি ইসলাম ও হিন্দু ধর্ম অবমাননায় এক শিক্ষকে স্কুল ও প্রেস ক্লাব থেকে বহিষ্কার।

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৯০২ Time View

রিপোর্টঃ মোঃ জাফর হোসেন,

ঝালকাঠির নলছিটিতে ইসলাম ও হিন্দু ধর্ম অবমাননার ঘটনায় এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরো ১ শিক্ষককে ও ৩ শিক্ষিকাকে শোকজ করা হয়েছে।
ইসলাম ধর্ম নিয়ে মন্তব্য ছিল, “নামাজ শারীরিক ব্যায়াম, জান্নাত জাহান্নাম ও ফেরেশতা বলতে কিছু নেই। এগুলো স্বপ্নে দেখা। হিন্দু ধর্ম নিয়ে মন্তব্য ছিল, “দেবদেবী বলতে কিছু নেই এগুলো স্বপ্নে দেখা”। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাবা মা ইহুদি ছিলেন। পৃথিবীর এক কোটিরও বেশি মানুষ ধর্ম ব্যবহার করে না কিন্তু তারা সত্য বলে। ধর্ম বলতে কিছু নেই। এ কথাগুলো মিলন কান্তি দাস শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় উল্লেখ করলে তা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক ও সাংবাদিক মিলন কান্তি দাস কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং এর পক্ষপাতিত্ব করার জন্য অপর শিক্ষক মাওলানা ফেরদাউস ও তিন শিক্ষিকাকে শোকজ করে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।
গত ২০ আগস্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের চিঠি পেয়ে এ সিদ্ধান্ত নেন।
গত ১৫মে নলছিটি গার্লস স্কুলের ভোকেশনাল গ্রুপের দশম শ্রেণীর ছাত্রীদের পাঠদান কালে, নামাজ কি? এর উত্তরে ছাত্রীরা নামাজ বেহেস্তের চাবি বললে মিলন কান্তি দাস উপরোক্ত কথা বলে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মের অবমাননা করে এবং ছাত্রীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। এই ঘটনা প্রকাশ পেলে ছাত্রীদের উপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং উল্টো ছাত্রীদের দিয়ে মিলন কান্তি দাস পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে যার সাথে জড়িত ১ শিক্ষক ও ৩ শিক্ষিকা। ঘটনাটি জানাজানি হলে নলছিটি বাসী ক্ষিপ্ত হয়ে যায় ও তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশ করে। উপজেলা প্রশাসন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দদেরকে নিয়ে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি দীর্ঘ দুই মাস তদন্ত করে মুসলিম ও হিন্দু ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করার সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। পাশাপাশি ১ শিক্ষক ও ৩ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের ভয় দেখানো ও অভিশাপের কথা বলে ভিডিও ধারণ করার সত্যতা পায়। এটাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত ১৫ মে সিনিয়র শিক্ষক মিলন কান্তি দাস বাংলা বিষয় মানুষ মুহাম্মদ (সাঃ) এর পাঠদান করার সময় মুসলিম ও হিন্দুধর্মের অবমাননা ও ছাত্রীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার বিষয় ১৭ জন মুসলিম ২ হিন্দু শিক্ষার্থীর বক্তব্য নেয়া হয় যা প্রায় একই রকম ছিলো। এ ঘটনায় গত ২৪আগস্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সালমা আক্তার ছাত্রীদের বলেন, তোমাদের প্রতিবাদ করা ঠিক হয়নি এতে মিলন কান্তি দাসের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য তোমাদের মিলন কান্তি দাসের অভিশাপ লাগবে। তখন শিক্ষিকা রুনা লায়লা ক্লাসরুমে থাপ্পর দেখিয়ে মিলন কান্তির পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে। পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওটি ধারণ করেন মাওলানা ফেরদৌস। অপর শিক্ষিকা শাহনাজ রহমান শিক্ষার্থীদের মিলন কান্তি দাসের পক্ষে লিখিত দিতে বলেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে মিলন কান্তি দাস ও অপর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে নলছিটিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাহী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বৈঠক করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে সবাইকে অনুরোধ করেন এবং উক্ত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেন ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন।
পরবর্তীতে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হলে গত ১৯ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গার্লস স্কুল কর্তৃপক্ষকে ৫ শিক্ষক ও শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এর প্রেক্ষিতে মিলন কান্তি দাস কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ও অপর ৪ শিক্ষক শিক্ষিকাকে শোকাজ করা হয়।
এদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনা সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় নলছিটি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে মিলন কান্তি দাসের সহ সভাপতি পদসহ সদস্য পদ থেকে ২০ শে আগস্ট রাতে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেসক্লাবের সদস্য শাহাদাত হোসেন মনু।
এ বিষয়ে নলছিটি গার্লস স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষক মিলন কান্তি দাসকে প্রাথমিক সাময়িক বরখাস্ত এবং অপর ৪ শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে শোকজ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025           Themes by BDITWork.com