1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. jamalhossain622423@gmail.com : jugantornews24 :
২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| বৃহস্পতিবার| দুপুর ১২:৫৬|
শিরোনামঃ
নিউজ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ড. এম এ কাইয়ুমের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল ইউথ কমিউনিটি ঢাকা-১১ জামালপুরে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির আয়োজনে – সাভার ডিবির অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, ইয়াবা ও চোলাইমদ উদ্ধার ভোলার ৭ উপজেলায় দুদকের ‘সততা স্টোর’: নৈতিকতা চর্চার এক নতুন দিগন্ত মধ্যনগরে বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় যুবকের মৃত্যু তানোরে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পদ দারী নেতা ছাড়া কর্মীরা কি কোন অপরাধ করে নি? দক্ষিণ সুরমায় তীর শিলং জুয়া যেন থামছেই না বোয়ালমারীতে বিএনপি জনসভা স্থগিত, খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিল

প্রশাসন আমাদের কথায় উঠবে-বসবে-গ্রেপ্তার করবে, বললেন শাহজাহান চৌধুরী

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪৭ Time View

মোঃ শাহজাহান বাশার

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আবারো এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন—জামায়াতের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি ‘ইতিহাসের সেরা সুযোগ’ এবং এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রশাসনকে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তাঁর ভাষায়—“আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে।”

শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতের চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের এক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বক্তব্যের শুরুতেই শাহজাহান চৌধুরী বলেন—“জামায়াতে ইসলামীর জন্য আজকের এই সুযোগ ভবিষ্যতে আর আসবে না। দুর্নীতির টাকা বাদ দেন, পার্শ্ববর্তী দেশ হিন্দুস্তান থেকে বস্তা বস্তা টাকা দেশে ঢুকবে। আর অস্ত্র ঢুকবে।”
তার এমন মন্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে মুহূর্তেই চাপা গুঞ্জন শুরু হয়।

তিনি আরও বলেন—“আমাদের আমিরে জামায়াত যদি থাকতেন, তাহলে আমি বলতাম—নির্বাচন শুধু জনগণকে দিয়ে নয়। যার যার নির্বাচনী এলাকায় যারা আছে প্রশাসনে, সবাইকে আমাদের আন্ডারে আনতে হবে।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব বিস্তারের কৌশল নিয়েও নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন—

“যার যার নির্বাচনী এলাকায় প্রাইমারি স্কুলের মাস্টারকে দাঁড়িপাল্লার কথা বলতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককেই দাঁড়িপাল্লার কথা বলতে হবে। পুলিশকে আপনার পেছনে পেছনে হাঁটতে হবে। ওসি সাহেব সকালে আপনার প্রোগ্রাম জেনে নেবে এবং আপনাকে প্রোটোকল দেবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য সরাসরি প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবের অধীনে আনার ইঙ্গিত, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য স্পষ্ট হুমকি।

নিজস্ব ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শাহজাহান চৌধুরী বলেন—“দক্ষিণ জেলায় লোহাগাড়ায় ১০০ কোটি, সাতকানিয়ায় ১০০ কোটি, আর বাস্তবায়নের জন্য লোহাগাড়ায় ১০ কোটি, সাতকানিয়ায় ১০ কোটি দিয়েছি।”

তার এই ‘বিনিয়োগমূলক’ দাবি রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে—এ অর্থ কোথা থেকে এসেছে? কার স্বার্থে ব্যবহার হয়েছে? কোন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে?

ভোট রাজনীতি নিয়ে শাহজাহান চৌধুরী বলেন—“নির্বাচন সংগঠন নয়। সংগঠন অবশ্যই লাগবে, কিন্তু জনগণকে যদি জায়গা দিতে না পারেন, তাহলে নির্বাচনে বিজয় কঠিন।”

তিনি অতীত সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন—“বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শুধু আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে দেশ চালাতে চেয়েছিল। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তাই জনতার আন্দোলনের মুখে তাদের নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন—প্রশাসনকে কব্জায় আনা,শিক্ষক ও পুলিশকে নির্দিষ্ট দলীয় প্রতীকের প্রচারে বাধ্য করা,এবং বিদেশ থেকে ‘টাকা–অস্ত্র’ আসার দাবি

এগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করবে।অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এ ধরনের বক্তব্য কি সরাসরি রাষ্ট্রীয় কাঠামো, শিক্ষক সমাজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা নয়?

শাহজাহান চৌধুরীর এমন উন্মুক্ত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়—এই মন্তব্য শুধু বিতর্কিত নয়, বরং প্রশাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025           Themes by BDITWork.com